যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ক্লাভেরাক এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিউইয়র্কের রুট-৯ এইচ সড়কের ভ্যান ওয়াইক লেন সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল, একাধিক ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এবং শেরিফ দপ্তরের সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন- কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের মো. হীরামন (৬০), তার ছেলে নাজমুল রুবেল (৩০) এবং তাদের পারিবারিক বন্ধু ফাহিম আলিম (২৭)। তারা সবাই নিউইয়র্কের লাউডনভিলে বসবাস করতেন।
অপর নিহত জুলিয়া রিচি (৬২) অন্য গাড়ির যাত্রী ছিলেন।
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, হীরামন ও তার ছেলে নাজমুল নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। ফাহিম আলিম ছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত হীরামনের বড় মেয়ে রত্না (৩৩) এবং তার এক বছর বয়সী নাতনি ইকরা। রত্না বর্তমানে আলবানি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অপর গাড়ির চালক লুকা পালভেনিয়ান (২৪) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নাজমুল রুবেল চালিত একটি টয়োটা প্রিয়াস উত্তরমুখী যাওয়ার সময় হঠাৎ সড়কের মাঝের বিভাজনরেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কী কারণে প্রিয়াস গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেন অতিক্রম করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। শেরিফ দপ্তরের ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন টিম বিষয়টি তদন্ত করছে।
দুর্ঘটনার পর ক্লাভেরাক, লিভিংস্টন ও গ্রিনপোর্টসহ একাধিক এলাকার ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুর্ঘটনার তীব্র শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় শেরিফ জ্যাকি সালভাতোরে দুর্ঘটনাটিকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুর্ঘটনার কারণে রুট-৯ এইচ সড়কে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়কটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজন ও পরিচিতরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
নিহত হীরামনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম জানিয়েছেন, নিহতদের জানাজার নামাজ বুধবার নিউইয়র্ক সময় জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাদের নিউ জার্সির মার্লবুরো মুসলিম সিমেটেরিতে দাফন করা হবে। তিনি নিহতদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। গাড়ির গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ এবং সড়ক পরিস্থিতি- সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ লেন অতিক্রমের কারণেই ভয়াবহ এই সংঘর্ষ ঘটে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে