পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জেলি মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত জেলি জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন ওই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে দুধ ব্যবসার আড়ালে সয়াবিন তেল ও ক্ষতিকর জেলি মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এসব দুধ তিনি দেশের বিভিন্ন নামী-দামি দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে (চিলিং সেন্টার) সরবরাহ করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁর ঘর থেকে নকল দুধ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত প্রায় ২০০ লিটার বিষাক্ত জেলি জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিরাপদ খাদ্য আইন অমান্য করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এই ভেজাল কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন ফারুক। অপরাধ স্বীকার করায় তাঁকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুধে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক হালিমা খানম। তিনি বলেন, নকল দুধে ব্যবহৃত এসব উপাদান মানবদেহের কিডনি ও ফুসফুস সরাসরি অকেজো করে দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এই দুধ পানের ফলে শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিনিধি/একে