পাবনা জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৮৪ জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮১৭ জন শিশুকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৯ শতাংশ।
মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ে পাবনার ঝুঁকিপূর্ণ চারটি উপজেলা এবং তিনটি পৌরসভার ৮০৮টি টিকাদান কেন্দ্রসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পৌরসভার কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এছাড়া গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে পুরো পাবনা জেলায় ১ হাজার ৫০টি কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো শিশু পূর্বে হামের টিকা নিয়ে থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে তাকে পুনরায় টিকা দেওয়া হবে এবং এটি অতিরিক্ত ডোজ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো অসুস্থ বা হামে আক্রান্ত শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় টিকা দেওয়া যাবে না; শিশু সুস্থ হলে পরবর্তীতে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
সিভিল সার্জন আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২০২৪-২৬ সালেও এই টিকা দেওয়া হয়েছিল, তবে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ছিল। বর্তমানে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচি আবারও শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খায়রুল কবির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাবনার মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল বারী, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা এবং সাংবাদিক মাহফুজ আলমসহ আরও অনেকে।
প্রতিনিধি/একে