প্রচণ্ড গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে শিশু ডায়রিয়া রোগ বেড়েছে ব্যাপক হারে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের কারণে শিশুদের শরীরে পানির স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকগণ।
এদিকে সাতক্ষীরার সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু ডায়রিয়া রোগীর পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ ময়না খাতুনের ১১ মাস বয়সী শিশু আররায়হান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আজ (২৪ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে স্যালাইন ব্যতীত অন্যান্য ওষুধ হাসপাতালের বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়েছে বলে জানান এই গৃহবধূ।
এদিন তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রাম থেকে আসা গৃহবধূ পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সী শিশু পুত্র মোছাব্বির হোসেনকে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। তাছাড়া অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতালের বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। এখানে স্যালাইন ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর, মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি শিশু হাসপাতালের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৫০ দিনে এই তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার জন, সদর হাসপাতালে ৫৭৭ জন এবং বেসরকারি শিশু হাসপাতালে ১৪১ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া এসব হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বহির্বিভাগেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ সামছুর রহমান জানান, আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে গরম শুরু হয়। এ সময় শিশুদের শরীরে পানির স্বল্পতা দেখা দেয়। এতে করে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বর ও বমিতেও ভোগে। এ সময় শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তাছাড়া শিশুরা যেন কোনো ক্রমেই পচা-বাসি খাবার খেতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হিসাবে ১ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১ হাজারের বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত শয্যা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ