মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক (ফ্রি) করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে দায়িত্ব পেয়ে তিনি তা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বর্ধিত করেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের সাত থেকে ১০ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মানবেতর জীবনযাপনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করার কাজ শুরু করেছে সরকার।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিল্পায়ন নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে। এতে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে বেশ কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
উৎপাদনমুখী রাজনীতির অংশ হিসেবে নতুন করে খাল খনন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন এবং খালের পানিতে মৎস্য চাষ ও পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে।
ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমান জানান, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২ মে সিলেট থেকে নতুন কর্মসূচি শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০ জন পেশাদার খেলোয়াড়কে সরকারিভাবে সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।