ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে। ইইউ নিয়ন্ত্রকদের অভিযোগ, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ ঠেকাতে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউরোপীয় কমিশনের দুই বছরের তদন্ত শেষে এই প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়, যা ডিজিটাল পরিষেবা আইনের আওতায় করা হয়েছে। এই আইনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহার রোধে মেটার পদক্ষেপ অপর্যাপ্ত। এমনকি ইউরোপে ১০ থেকে ১২ শতাংশ শিশু এই বয়সসীমার নিচে থেকেও এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।
ইইউর প্রযুক্তি প্রধান হেনা ভিরকুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্ধারিত বয়সের নিচে থাকা শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম খুব কমই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শর্তাবলি শুধু কাগজে থাকা উচিত নয় বরং ব্যবহারকারীদের—বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিতে হবে।
তবে অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে মেটা কর্তপক্ষ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে বয়স শনাক্ত ও কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট সরাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহেই নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বয়স যাচাই করা শিল্পব্যাপী একটি চ্যালেঞ্জ এবং এ বিষয়ে সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে মেটা। পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
দেশবার্তা/একে