২০১২ সালে বাবাকে হারিয়েছিলেন। ২০২১ সালে কেড়ে নিল মাকেও। দুই প্রিয় মানুষকে হারানোর নেপথ্যে ছিল ঘাতক ব্যাধি ক্যানসার। স্বজন হারানোর শোক আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে যখন জীবন থমকে যাওয়ার কথা, ঠিক তখনই অদম্য মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন জুঁই মনি। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এখন উচ্চশিক্ষার আঙিনায়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুঁই মনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
জুঁই মনির এই সংগ্রামী পথচলায় পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর জেলা পরিষদ। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকার বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
চেক হস্তান্তরকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, জুঁই মনি কেবল শেরপুর নয়, বরং দেশের সম্পদ। তাঁর এই অদম্য সংগ্রাম, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অনুকরণীয়। আমরা বিশ্বাস করি, জুঁই ভবিষ্যতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, জুঁই মনির স্বপ্নপূরণের এই যাত্রায় শরিক হতে পেরে জেলা পরিষদ গর্বিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুঁই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেশের সকল নারীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠবেন।
ছোট বোনের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত ভাই রিপন মিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শেরপুরের এই লড়াকু তরুণীর গল্প এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। জুঁই মনির এই অর্জন প্রমাণ করেছে- স্বপ্ন দেখার সাহস আর নিরলস প্রচেষ্টা থাকলে জীবনের কোনো বাধাই শেষ কথা নয়।
দেশবার্তা/একে