ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বৃহস্পতিবার | ৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২০:২৮
চলমান বার্তা:
বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে ক্রিকেটারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিসিবির ব্যবস্থা
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২০:১৫  (ভিজিটর : )

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে বহুল আলোচিত ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এক ক্রিকেটারসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার, দুই টিম ম্যানেজার, এক ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক এবং আরেকজন ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের বিপিএলকে কেন্দ্র করে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালার বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করা হয়েছে।

বিসিবি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বোর্ড।

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্তে জুয়া–সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন বা মুছে ফেলা এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার (ড্যাকো) কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার)
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: যথাযথ কারণ ছাড়া ড্যাকোর তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং অনুচ্ছেদ ৪.৩–এর অধীনে দেওয়া নোটিশ অমান্য করা।
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্তে বাধা সৃষ্টি, তথ্য ও যোগাযোগসংক্রান্ত প্রমাণ গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংসের চেষ্টা।

মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক)
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি বা ব্যর্থতা।
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্তে বাধা দেওয়া এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা।

অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেওয়া।

রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে বাজি ধরা কিংবা বাজিতে অংশ নেওয়া।

সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ

এ ছাড়া বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় একটি ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া–সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশি–বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিসিবি জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

দীর্ঘ তদন্তের পর বিসিবির সিদ্ধান্ত

২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচ ঘিরে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা নজরে এলে বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তদন্ত কমিটি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয় বিসিবির কাছে। পরে সেই প্রতিবেদন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়। যাচাই–বাছাই শেষে কয়েকজন ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

নিলামের বাইরে ছিলেন কয়েকজন ক্রিকেটার

সবশেষ বিপিএলের নিলামে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরও কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার ছিলেন না। তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল, ২০২৫ মৌসুমে ফিক্সিং–সংশ্লিষ্ট সন্দেহের কারণেই তাঁদের এবারের বিপিএলে খেলতে দেওয়া হয়নি। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁদের কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।

দেশের ক্রিকেটে নতুন শঙ্কা

বিপিএলকে ঘিরে এমন দুর্নীতির অভিযোগ দেশের ক্রিকেটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিপুল অর্থের প্রবাহ, অনলাইন বেটিং চক্রের বিস্তার এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিসিবি অবশ্য জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেশবার্তা/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
কলাপাড়ায় ৪৫ বছর পর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন শুরু
কলাপাড়ায় ৪৫ বছর পর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন শুরু
জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা
জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা
ট্রাম্পের হুমকির পর ফের বাড়ল তেলের দাম
ট্রাম্পের হুমকির পর ফের বাড়ল তেলের দাম
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg