নরসিংদীর পলাশে পায়ু পথ দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে রামিম নামে ৯ বছরের এক শিশু হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে জানিয়েছেন পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন।
এর আগে বুধবার (৬ মে) উপজেলার গজারিয়া বাজারের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রামিম পলাশ উপজেলার গজারিয়া চরকারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯ টার দিকে গজারিয়া বাজারে দাদা আমজাদ হোসেনের দোকানে যায় ৯ বছর বয়সী শিশু রামিম। তার দাদা আমজাদ হোসেন এ বাজারের ঢেউটিন ব্যবসায়ী এবং তার বাবা রিপন মিয়াও একই বাজারের স্যানেটারী ব্যবসায়ী। সে সুবাধে দিনের বেশিরভাগ সময়ই দাদার সাথে বাজারে সময় কাটতো রামিমের।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাজারে ফয়সাল মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে যায় শিশু রামিম। এসময় একই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে রিকশা চালক সবুজ মিয়া রিকশার টিউবে হাওয়া দেওয়ার মেশিনের সাহায্যে দুষ্টুমির ছলে শিশু রামিমের পায়ুপথ দিয়ে হাওয়া দেয়। এতে শিশুটির পেট ফুলে যায় এবং সে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন গিয়ে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ রাকিব আসকারী জানান, ধারণা করা হচ্ছে পায়ুপথ দিয়ে উচ্চ গতিতে বাতাস প্রবেশ করার কারণে নারীর কোনো একটি অংশ ছিদ্র হয়ে যায়। যার ফলে পেটের ভিতর রক্তক্ষরণ হয়। যার কারণে তার ব্যাপক পেটব্যথা শুরু হয় এবং শ্বাস নিতে পারছিল না। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, সন্ধ্যার পর শিশুর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আজ লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা। পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ