মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পারমাণবিক সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষ বক্তৃতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। আইএসপিআর
বুধবার (১৩ মে) তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে আমন্ত্রিত শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
‘পারমাণবিক সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আওতায় জাতীয় দায়িত্ব এবং এর জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব’ শীর্ষক এই বক্তৃতায় তিনি বলেন, পারমাণবিক সুরক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত কোনো বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক স্থাপনা, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা কেবল কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এখন পারমাণবিক নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিগত সচেতনতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ববোধ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এই স্থাপনার নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক সুরক্ষা এখন বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ। ভৌত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জনসচেতনতা- সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তৃতা শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। পরে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান তাকে ধন্যবাদ জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিক্স, ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের গবেষণামূলক কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও উন্নয়নে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে