দেশের চরাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই জীবনমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক এবং গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (গাক)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি।
সম্প্রতি এনসিসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় এনসিসি ব্যাংক ‘দ্যা অ্যাডাপটিভ ইকো চর প্রজেক্ট: এ ব্লুপ্রিন্ট ফর থ্রাইভিং ডাইনামিক ল্যান্ডস্কেপস’ শীর্ষক প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। প্রকল্পটি আগামী দুই বছর মেয়াদে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হবে। এই মহতী উদ্যোগে কৌশলগত সহযোগী হিসেবে কাল্টিভেরা লিমিটেড এবং গবেষণা ও মূল্যায়ন সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে “ডাহুক”।
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস সালাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও কাল্টিভেরা লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ফারুক আহমেদ এবং ডাহুকের প্রতিষ্ঠাতা মো. মাগফি রেজা সিদ্দিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো চরাঞ্চলের মানুষের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জন্য বিকল্প ও টেকসই জীবিকার সংস্থান করা। এর আওতায় সৌরশক্তিচালিত ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ বার্তা প্রদান, ডিজিটাল সেবা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩০০-র বেশি পরিবার সরাসরি আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে এবং হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ পানি ও জ্বালানি সুবিধার আওতায় আসবে।
অনুষ্ঠানে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, এনসিসি ব্যাংক শুধু আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। চরাঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে, তাদের জন্য আধুনিক কৃষি সুযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয় বরং অধিকার। এই প্রকল্প চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই আর্থিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস সালাম জানান, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের চরাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই অগ্রগতির একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আশা করেন, এই সমন্বিত মডেলটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
দেশবার্তা/একে