দিনাজপুর পৌরসভা এলাকার সড়ক ও মহাসড়কে টোল আদায়ের নামে অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দিনাজপুরে ট্রাক মালিক ও ট্রাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা সড়ক ধর্মঘট কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে জেলার সড়ক ও মহাসড়ক। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের আশ্বাস এবং আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ধর্মঘট চলাকালে দিনাজপুর শহরের নয়নপুর পিডিবি মোড়স্থ দিনাজপুর জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং-রাজ-২৪৫)-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে দিনাজপুর ট্রাক মালিক ও ট্রাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং দিনাজপুর জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদাকাতুল বারী জানান, ধর্মঘট চলাকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম মোবাইল ফোনে আমাদের আশ্বস্ত করেন এবং পৌর প্রশাসককে অবিলম্বে এই টোল আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পৌর প্রশাসক একটি পৌর আদেশের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিনাজপুরে না আসা পর্যন্ত এই পৌর টোল আদায় বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে মালিক-শ্রমিক, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং পৌরসভার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস প্রদান করা হয়। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি সৈয়দ সপু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রশিদ ফজলু, দিনাজপুর ট্রাক ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আনোয়ারুল হকসহ ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, টোল আদায়ের নামে অবৈধ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দিনাজপুর জেলা ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই সড়ক ধর্মঘটে সকাল ৬টা থেকে জেলার সড়ক-মহাসড়কসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। বেলা ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর ধীরে ধীরে জেলার সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট চলাকালে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে টোল আদায়ের নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তাই বাধ্য হয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, দিনাজপুর শহরে প্রবেশ করলেই ট্রাক চালকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।
দিনাজপুর ট্রাক শ্রমিক মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বারী বলেন, টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি আপাতত প্রশাসনের আশ্বাসে বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর ধীরে ধীরে জেলার সব সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।
প্রতিনিধি/আরএইচ