নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের ৯ মাস পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিছক পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহ থেকে মেধাবী এই শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সোনারগাঁয়ের মো. আজিম হোসাইন (২৭), সিদ্ধিরগঞ্জের ফয়সাল (২৭) এবং রূপগঞ্জের নুসরাত জাহান মিম (২৪)।
পিবিআই জানায়, গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ মে ডেমরা এলাকা থেকে প্রধান আসামি আজিমকে গ্রেপ্তার করার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আজিম ও মিম দম্পতি হলেও কলহের কারণে আলাদা থাকতেন। ঘটনার প্রায় মাসখানেক আগে আজিম তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে ‘ইয়াছিন আরাফাত’ নামের একজনের টেক্সট দেখে ক্ষুব্ধ হন। মিম তাকে ফুফাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দিলেও আজিম তা বিশ্বাস করেননি। বরং ইয়াছিনকে স্ত্রীর প্রেমিক সন্দেহ করে বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াছিনকে কৌশলে সিএনজিতে তুলে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ লেকে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার আজিম আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
অন্য দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
দেশবার্তা/একে