বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার দীঘির কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমা আক্তারের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে দীঘির পূর্ব-দক্ষিণ এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। নিহত ফাতেমা তার মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকাতেই থাকত।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাটে ফাতেমা গোসল করতে নামলে একটি কুমির তাকে আক্রমণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী দর্শনার্থী আলামীন হোসেন জানান, হঠাৎ শিশুর চিৎকার শুনে তারা ঘাটের দিকে ছুটে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটির পায়ে থাবা দিয়ে টেনে দীঘির গভীর পানিতে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই মাজার ঘাটে ছুটে যান বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সফল হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার। শিশুটিকে উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন রাতেই কয়েকটি নৌকা নিয়ে দীঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। অবশেষে আজ ভোরে মরদেহটি ভেসে উঠলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
বাগেরহাট ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক মো. বেলাল হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সফল হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে মাজারের দীঘিতে সাময়িকভাবে গোসল করা বন্ধ করা হতে পারে। দীঘিতে কুমির থাকায় বর্তমানে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাজারের দীঘিতে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি জানান, অরক্ষিত এই জায়গাটিকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা চলছে। মুসল্লিদের ওজু এবং মানুষের গোসল করার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে, কুমির যাতে ঘাটের কাছাকাছি আসতে না পারে সেজন্য খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ছয়শত বছরের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘিতে তাঁর সময়ের লালন-পালন করা বিখ্যাত ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ কুমির বংশের শেষ সদস্যও আর বেঁচে নেই। বর্তমানে দীঘিতে থাকা লবণ পানির এই কুমিরটি ভারতের মাদ্রাজ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল, যা এখন এই দীঘির একমাত্র কুমির।
দেশবার্তা/একে