দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে শেরপুরে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত শেরপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগামী ৮ জুন উচ্চপর্যায়ের একটি পরিদর্শন কমিটি সরেজমিনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করবে।
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৮ জুন সকাল ১০টায় প্রস্তাবিত শেরপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করবে কমিটি। নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের উপযোগিতা, প্রয়োজনীয়তা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করাই এ পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য। সরেজমিন পরিদর্শনের পর কমিটির সদস্যরা মতামত ও সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে তা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করবেন।
পরিদর্শন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন)। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন, জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) মনোনীত প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকবেন।
শেরপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি বহু বছরের। সীমান্তবর্তী এ জেলার শিক্ষার্থী ও রোগীদের উচ্চশিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে শেরপুরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং আর্মি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর্মি মেডিকেল কলেজের জন্য জমিও নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যদিও এখনো প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রস্তাবিত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি আর্মি মেডিকেল কলেজ প্রকল্পও বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে শেরপুরে দুটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে জেলার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।
দেশবার্তা/একে