বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার সাত দিন পর অবশেষে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তে বিলম্ব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম থেকে পুলিশ এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
৭দিন পর মামলার তথ্য সাংবাদিকদের জানান বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আব্দুল আলিম। তিনি জানান, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস থানায় এজাহার জমা দেওয়ার পর সেটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে, বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর নতুন ভবনের তৃতীয় তলার খাকদোন-৩ ও খাকদোন-৪ নামে দু’টি রুম থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৮) এবং তার দুই মেয়ে আরাধা ও অনুরাধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বরগুনা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্তে বিলম্ব হওয়া এবং মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে একে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করার তীব্র প্রতিবাদ জানান স্বজনরা। তারা এই ঘটনাকে সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ