দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানামুখী সমীকরণ আর জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। প্রণয় ভার্মা এরই মধ্যে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কলকাতা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে প্রথমে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছান দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তিনি এ দেশে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী। বেনাপোলে ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার। সেখান থেকে আবার সড়কপথেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
সড়কপথ বেছে নেওয়ার নেপথ্যে
সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকেরা আকাশপথে এ দেশে এলেও দীনেশ ত্রিবেদীর এই সড়কপথ বেছে নেওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বেনাপোল সীমান্তে সাধারণ মানুষের মতো নথিপত্র ও পাসপোর্ট-ভিসা দেখিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিনি একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দিয়েছেন। বৈধ উপায়ে কীভাবে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে প্রবেশ করতে পারে, প্রতীকীভাবে তিনি সেটিই তুলে ধরেছেন।
আবার অন্য একটি পক্ষের ধারণা, সড়কপথে বিস্তীর্ণ জনপদ ও সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি নিজের আন্তরিকতা ও গভীর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন নতুন হাইকমিশনার। তিনি শুরুতেই এ দেশের মাটিকে কাছ থেকে চিনে নিতে চেয়েছেন।
এর আগে সাবেক হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সড়কপথে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তবে সেটি ছিল করোনা মহামারির কারণে বিমান চলাচল সীমিত থাকার বিশেষ পরিস্থিতি। কিন্তু বর্তমানের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীর এই স্থলপথের যাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি, তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি- ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি? একই আকাশ, একই বাতাস। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করব।’
বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দুই দেশের মেলবন্ধনের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, আমাদের অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের কথা স্পষ্ট করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা থাকলে সব সমস্যার সমাধানই সম্ভব। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা- তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় দেশটির সরকার।
৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এর আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। সূত্র: দ্য ওয়াল
দেশবার্তা/একে