ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় দুই মাস বয়সী এক শিশুপুত্রকে আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বাবার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ফুলগাজী ভূমি অফিসের পাশে মেম্বার কলোনীর একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশুটির নাম জুনায়েদ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা সুলতানকে আটক করেছে পুলিশ।
শিশুটির মা রুনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী সুলতান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এর আগেও তিনি কয়েকবার শিশুটির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে একপর্যায়ে আছাড় দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান দাবি করেছেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তানকে হত্যা করেননি। তার ভাষ্য, সন্তানকে নিয়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ডাকঘর এলাকায় এবং রুনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার বাহাড়তলা এলাকায়। কয়েক বছর আগে তারা ফেনীর ফুলগাজীতে এসে বসবাস শুরু করেন। সুলতান বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, “রাতে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ