ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী পার্বতী থিরুভোথু জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র শিল্পে ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলার পর তাকে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়েছে। বড় বড় সিনেমা হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি তাকে মৃত্যুর হুমকি ও ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পার্বতী তার ক্যারিয়ারের পরিবর্তিত যাত্রা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, ২০১৭ সালের কেরালা অভিনেত্রী অপহরণ ও নির্যাতন মামলার পর তার জীবন ও ক্যারিয়ার বড় মোড় নেয়। সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে হলে ন্যায্যতার লড়াইকে বহুমাত্রিকভাবে দেখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে।
নিজের স্পষ্ট অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে তীব্র সমালোচনা ও বিদ্বেষের মুখোমুখি হয়েছেন পার্বতী।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসব হুমকি ও আক্রমণ তাকে দমাতে পারেনি। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে তাকে বেশ কয়েকটি বড় চলচ্চিত্র থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দূরে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
পার্বতী বলেন, ‘আমি আজ এখানে বসে আছি অনেক সহযোদ্ধার কারণে, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকেনি। আমি খুব বড় কিছু করছি না, শুধু একজন দায়িত্বশীল মানুষের ন্যূনতম কাজটুকু করছি।’
ন্যায়বিচারের এই পথ মোটেও সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় এমন কিছু শক্তি একত্র হয়েছে যারা আমাকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চেয়েছে, কারণ আমি শক্তভাবে কথা বলি। বিষয়টি আমাকে বেশ ভীতও করেছিল।’
ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে।
তবে কঠিন এই সময়ে পরিবার ও বন্ধুরাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে পাশে ছিল বলে জানান পার্বতী। তার বাবা-মা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং তার ভাই সবচেয়ে ভালো বন্ধুর মতো সবসময় তাকে আগলে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ‘বেঙ্গালোর ডেজ’, ‘চার্লি’, ‘কাডাক সিং’, ‘টেক অফ’, ‘উয়ারে’, ‘কারিব কারিব সিঙ্গেল’ এবং ‘ইন্নু নিনতে মোইদিন’-এর মতো জনপ্রিয় ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন পার্বতী। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস