দেশের আরও ১০টি জেলা নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে রেল সেবার আওতায় আসতে যাওয়া জেলাগুলো হলো- শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর।
সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে আজ রেল মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কানেক্টিভিটি ও সেবার মান নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে চলমান ও আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের মতো বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছে। একই সঙ্গে ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি কনটেইনার প্রকল্প পাস হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট পর্যন্ত যে মিটারগেজ অংশ বা ‘মিসিং লিংক’ রয়েছে, সেটিকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি ‘কর্ড লাইন’ নির্মাণের বিষয়েও সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত ও দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই কর্ড লাইনটি নির্মিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার কমে যাবে বলে জানান মন্ত্রী।
বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ৬৪ জেলাকেই আমরা রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে নতুন আরও ১০টি জেলায় কীভাবে রেল সেবা নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ এসেছে।
এছাড়া ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে দ্রুত যাতায়াতের জন্য কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন- মানিকগঞ্জে কোনো ট্রেন যোগাযোগ নেই। আমরা ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে মানুষ কাজ শেষে দ্রুত নিজ জেলায় ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আমলে রেললাইন নির্মাণ করা হলেও ক্যারেজ বা লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) কোনো সন্ধান থাকত না। আমরা এবার সেই বিচ্ছিন্ন ধারা থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে এসেছি। এখন থেকে রেললাইন, বগি ও ইঞ্জিন- সবকিছুর আয়োজন একই ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) মধ্যে থাকবে। লাইন নির্মাণ শেষ হওয়া মাত্রই ট্রেন চলাচল শুরু করবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে আর কোনো প্রকল্প আলাদা বা বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া হবে না; বরং সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে লাইনের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন সাধারণ মানুষ সুফল পেতে পারে, সেই লক্ষে আগামী দিনের সব প্রকল্প সাজানো হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে