মাত্র এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৬৭ নম্বর গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন একজন প্রধান শিক্ষক ও নয়জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পানির সঙ্গে কাদা ও আবর্জনা মিশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ভেজা কাপড় নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবক নিলিমা নাসরিন বলেন, ‘আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বৃষ্টি হলে সে স্কুলে যেতে চায় না। এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যায়। এতে শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচুকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে। এতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণেও সমস্যা আরও বেড়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে, সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়ই আরও বাড়বে।
দেশবার্তা/একে