ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মৌসুম বর্ষায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের একগুচ্ছ সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে যশোরের জেলা প্রশাসক বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ সময় ডেঙ্গুর উপদ্রব বেশি থাকে। তাই পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে মশা নিধন, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে যেন দ্রুত চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় যশোর জেলার বিভিন্ন কলেজ, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল-ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের জটলা করতে দেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন অধ্যক্ষদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে সব কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বেঞ্চ-টেবিল, আলো-বাতাস ও টয়লেটের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রতিনিধি জানান, প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী অসুস্থ হলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধন কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
সভায় উপস্থিত অধ্যক্ষরা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করা হবে। বৃষ্টি-বাদলের দিনে শিক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য অভিভাবকদের বিকল্প রুট ও সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
সভায় পরীক্ষার সময়সূচি, কেন্দ্রের তালিকা, ভিজিল্যান্স টিম গঠন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধি/একে