ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২১:১০
চলমান বার্তা:
অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত যশোর, ছুটি বাতিল করে মাঠে প্রশাসন
চালু হচ্ছে বিশেষ অপরাধ হটলাইন
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৫০  (ভিজিটর : )

টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরের ভবদহ অঞ্চলসহ জেলার আটটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, তলিয়ে গেছে ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, ফুলচাষ ও মাছের ঘের। দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর গ্যাং, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

সভায় জেলা প্রশাসক জানান, গত দুই দিনে যশোরে ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের ধানের বীজতলা, ফুল ও সবজির ক্ষেত এবং মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের জন্য গত দুই দিনে ২৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলার সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল থাকবে।

জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দেন।

সভায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি এবং সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত সাতটি করে অ্যান্টিভেনম মজুদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সভায় জুন মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার জানান, জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে। কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি, খুনি ও চোরাচালানিদের অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) প্রতিরোধে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাং, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী তথ্য সংগ্রহে শিগগিরই একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। নাগরিকরা ওই নম্বরে গোপনীয়ভাবে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন।

শহরের যানজট নিরসন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা উপলক্ষে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যশোরকে নিরাপদ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের আইন মেনে চলা ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

প্রতিনিধি/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।