হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে সতর্ক করেছেন স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক।
তার মতে, ফাইনালে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও লড়াকু মনোভাব তাদের যেকোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।
২০১০ সালে দেল বস্কের অধীনেই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ৭৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কোচ মনে করেন, ফাইনালে ওঠার পথে স্পেন দুর্দান্ত খেললেও লিওনেল স্কালোনির দলকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল পাইস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেল বস্ক বলেন, ‘আর্জেন্টিনা অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ। সহজ কথায় বলতে গেলে, তারা প্রতিপক্ষের জন্য রীতিমতো বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মাঠে তাদের ঠিক কী করতে হবে, সেটা তারা খুব ভালো করেই জানে।’
রবিবার নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে নামবে দুই দল। যেখানে স্পেনের লক্ষ্য দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তোলা, সেখানে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার।
এবারের টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখলেও, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন দেল বস্ক। তার ভাষায়, ‘ফাইনালে আমি স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছি। তবে আর্জেন্টাইনদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের বিরুদ্ধে খেলা কতটা কঠিন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে স্পেনকে সতর্ক থাকতে হবে।’
কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলেও এরপর টানা ছয়টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা স্প্যানিশরা সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। স্পেনের এই সাফল্যের পেছনে দলের ধারাবাহিকতা ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষমতাকে মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ কোচ।
১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশনে লড়বে আর্জেন্টিনা।
দেল বস্ক বিশ্বাস করেন, কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে নেওয়ায় ওস্তাদ আর্জেন্টিনাকে সমীহ করে খেললে স্পেনের সামনে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সব যোগ্যতাই রয়েছে।
দেশবার্তা/একে