ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২১:১০
চলমান বার্তা:
গ্যাস সংকটে রান্না বন্ধ, ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহকরা
মিটমিট করে জ্বলছে চুলা
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১৩:২৩ আপডেট: ২৪.০৭.২০২৬ ১৭:০৩  (ভিজিটর : )

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে গেছে। কোথাও কোথাও চুলা মিটমিট করে জ্বললেও রান্না করা যাচ্ছে না। ফলে রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কম। চুলা জ্বালানোর পর আগুন ঠিকমতো জ্বলছে না। অনেক সময় চুলা জ্বললেও রান্না করতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন।

কলাবাগান বাসিন্দা প্রান্ত ঘোষ বলেন, সকালে রান্না করতে গিয়ে দেখি চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে। চুলা মিটমিট করে জ্বলছে। এতে রান্না করতে অনেক সময় লাগছে। গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আপাতত কলা আর চিড়া দিয়ে নাস্তা করলাম দুপুরে কি করবো জানিনা। 

মধ্যবাড্ডা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ খুব কম। শুধু ভাত রান্না করতেই এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য কোনো রান্না করতেই পারিনি। বাধ্য হয়ে গরম ভাত পান্তা বানিয়ে পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে সবাই খেয়েছি।’

তিনি জানান, কয়েকদিন ধরেই সকালে গ্যাসের চাপ কম পাচ্ছেন। দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চাপ কিছুটা বাড়ে। এরপর রাতে আবার গ্যাসের চাপ কমে যায়।

এদিকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনেও সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহন চালকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বুধবার বিকেলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। এতে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

দেশবার্তা/আরএইচ
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
Loading...
Loading...
দেশবার্তা    বিজ্ঞাপন    সার্কুলেশন    শর্তাবলি ও নীতিমালা    গোপনীয়তা নীতি    যোগাযোগ   
স্বত্ব © ২০২৬ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।