ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরিফ উসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) হবিগঞ্জ শহরে ব্লকেড , বিক্ষোভ মিছিল, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে একটি স্থানীয় পত্রিকার অফিসেও হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় পুরো শহরে আতঙ্ক বিরাজ করে।
এদিন জুমার নামাজের পর হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্লকেড ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা। নামাজ শেষে সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে কোর্ট মসজিদের সামনে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি চিড়িয়াকান্দি এলাকায় পৌঁছার পর সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্লগার সুশান্ত দাসের মালিকানাধীন ‘দৈনিক আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ সময় অফিস থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যথাযথ নিয়ম পালন না করে দীর্ঘদিন যাবত পত্রিকার সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত লন্ডন অবস্থান করায় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে গত একমাস যাবত পত্রিকাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা জানান, হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হাদী সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় ফেসবুকে স্ট্যটাস দিয়ে আসছেন সুশান্ত দাশ গুপ্ত।
পত্রিকা অফিস থেকে ফেরার পথে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যাক্ত কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরালে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে গিয়ে আবারও বিক্ষোভ করেন। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন দোষীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতা আশরাফুল ইসলাম সুজন বলেন, “হাদী ভাইকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ঘটনার সাত দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি—এর মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে।”
আরেক ছাত্র নেতা মাহদি হাসান বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নের দাবি জানানো হবে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দোলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ