জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রক্ত নয়, এবার সিল দিয়েই আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে গত ১৭ বছরে যে নির্যাতন চলেছে, তারই আরেকটি নমুনা আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। এই নিপীড়ক ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে রাজপথ নয়—ভোটের সিলই হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী ফুলতলে মোড় এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনের প্রার্থী জুবায়ের হাসান আরিফের পক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের সামনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ক্রান্তিকাল হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। ৫ আগস্ট যেমন আমরা শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলাম, তেমনি এবারও জনগণের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, মার্কা নয়—যে রাজনৈতিক ঐক্য এই দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে, জনগণ তাদেরই ভোট দেবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কথা বললেও, যখনই বাস্তব সংস্কারের সুযোগ এসেছে, তখনই তারা নীরব থেকেছে।
‘ফ্যাসিবাদী শক্তির ঐক্যকে নস্যাৎ করতে এবং সংস্কারের পক্ষে রায় আনতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এগারো দলীয় ঐক্য জোট ও ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে’, বলেন তিনি।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও এগারো দলীয় ঐক্য জোটের চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জুবায়ের হাসান আরিফ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গত ১৬ মাসে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, খুন ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাইলে এগারো দলীয় ঐক্য জোট ও ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করতে হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শাগুপ্তা মিসমা বোসরা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শরিকুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বান্দরবান-৩০০ আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রতিনিধি/আরএইচ