জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আসন্ন গণভোটে আওয়ামী লীগের ‘না’ ভোটের প্রচারণা রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীরা দেশের রাজনীতিতে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
রোববার বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের গণভোটে দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পক্ষই ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। জনগণের রায় ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ‘না’ ভোটের প্রচারণা রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। জনগণ তাদের প্রতি ইতোমধ্যেই অনাস্থা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে জনগণের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা নেই।
এনসিপি মুখপাত্র নির্বাচনের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে আমরা আগেও প্রশ্ন তুলেছি। মাঠ পর্যায়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা কমিশনের নেই। কিছু এলাকায় কমিশনের পক্ষপাতিত্বের প্রমাণও দেখা গেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান নির্বাচনি সহিংসতাকেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। আমরা গভীর উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে ধৈর্য ধরছি।
তবে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি আগে থেকেই ঠিক করা থাকে কে প্রধানমন্ত্রী হবে বা কোন দল ক্ষমতায় আসবে, অর্থাৎ কোনো ধরনের ‘সেটলমেন্ট নির্বাচন’ আয়োজনের চেষ্টা হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোট যে কোনো সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।
মুখপাত্র আরও বলেন, আমাদের লড়াই শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সংস্কার, সুশাসন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে আসিফ মাহমুদ রংপুরের কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে