মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবকটিই ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গভীর রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এই দাবি করেন।
ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ১৭টি ঘাঁটির প্রতিটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনীর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শেখারচি গত বছরের ১৩ জুন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই ঘটনার পর ইরান তার রক্ষণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করে ‘আক্রমণাত্মক’ নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান গত ৪৭ বছরে কোনো দেশকে আগে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে কেউ হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে শত্রুকে পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইরান থামবে না।
আগ্রাসনকারীকে শাস্তি দেওয়া এবং যুদ্ধের ছায়া চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মার্কিন নীতির সমালোচনা করে এই মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মিথ্যা অজুহাতে গত ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বিনিয়োগের নামে জনগণকে শোষণ ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে প্রতারিত করেছে।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দিয়েছি, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সম্পূর্ণ মেনে চলতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অর্থায়নেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল।
আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখারচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আর আশ্রয় দেবেন না।’
তিনি সতর্ক করে দেন, যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য বিদেশি শক্তিকে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তবে এর চরম পরিণতি সেই দেশকেই বহন করতে হবে।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ।
দেশবার্তা/একে