সারাদেশে শুরু হওয়া ভারী ও অতিভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। এছাড়া সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও দ্রুত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে প্রবল বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো— ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু নদী ছাড়া বাকি তিনটি নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, যার ফলে জেলাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারার মতো বড় নদীগুলোর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। ছোট নদীগুলো বৃষ্টির পানিতে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের এই ধারা সহজে থামছে না। গতকাল মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার জন্য যে ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ৪ মে পর্যন্ত থেমে থেমে চলতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারে ইতিমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির তীব্রতা না কমলে বাকি তিন জেলা অর্থাৎ সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জেও পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। তবে বৃষ্টি কমে এলে দ্রুতই পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে