চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এদিকে বুধবারও (২৯ এপ্রিল) বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরের নিচু এলাকা, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূলত বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে বৃষ্টির ফলে মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, কাতালগঞ্জ সহ বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে চকবাজার এলাকার বাসিন্দা তৌফিকুল আলম বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই গলিগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ড্রেন উপচে নোংরা পানি ঘরে ঢুকেছে। এই অবস্থায় বাজারে যাওয়া বা কাজে বের হওয়া আমাদের জন্য নরক যন্ত্রণার মতো।
প্রবর্তক মোড় এলাকায় বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খালগুলোতে রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার প্রত্যাশার চেয়ে আগেই ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমতে শুরু করে। আমি আর্মি এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বাঁধগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বাঁধ খুলে দেওয়ার পর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, গতকালকের ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও এই কাজগুলো সিডিএ কিংবা সেনাবাহিনী করছে, কিন্তু চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
এসময় মেয়র এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার ম্যাক্স গ্রুপের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগ্রাবাদ ও ইপিজেড এলাকায় ম্যাক্স গ্রুপ র্যাম্প নামানোর কাজ শেষ করতে পারেনি। এই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি সিডিএকে আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিনিধি/আরএইচ