আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ২৫টি উপজেলা বা থানার ৩ হাজার ৫২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভা শেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের সভায় আমাদের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। বিজিএমইএ আমাদের এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরকম আরও সহযোগিতা পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্কুল ড্রেস দিতে পারব।’
কবে থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই থেকে এটা শুরু করব। এটা পাইলট প্রোগ্রাম। প্রথমে আটটি বিভাগেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আমরা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে এর আওতায় আনব।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদরাসা এই সুবিধা পাবে। এরপর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিক স্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে পোশাক বিতরণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি শ্রেণিতে এক সেট করে পোশাক পাবে। পরবর্তীতে আমাদের সক্ষমতা বাড়লে আমরা আরও বেশি দিতে পারি কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে প্রথমে এক সেট করে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।
পোশাকের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক একই রকম হবে। ছেলেদের পোশাক এক ধরনের, মেয়েদের আরেক ধরনের হবে। ইবতেদায়ী মাদরাসার পোশাক কিছুটা ভিন্ন হবে। কেমন রঙের হবে, সেটাও আমরা ঠিক করেছি। শিগগিরই তা জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে। তবে এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব এবং শিক্ষাকে এগিয়ে নেব।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিজিএমইএ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে