আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের লিফলেটে কোনও শব্দ সুপারিশের মধ্যে নেই। আর গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২৬’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর– তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, আলবদর, আলশামস ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছিলেন, তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে। এই আইন পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেনি এবং এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অনুসমর্থন জানানো হয়েছে। এর ফলে আইনি ও ব্যাখ্যামূলকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং খুন-ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
সংসদে বিগত সময়ের রাজনৈতিক বিভাজন তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আমরা যখন নির্যাতিতের পক্ষে ছিলাম, তখন বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একভাগে ছিল ফ্যাসিস্ট, মুষ্টিমেয় লুটেরা ও খুনি; অন্যভাগে ছিলাম আমরা সবাই।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংসদ আগামী দিনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত থাকবে।
১১-দলীয় জোটের লিফলেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল সংসদে ১১-দলীয় জোটের একটি লিফলেট পেয়েছি। সেখানে সংস্কারের দাবিতে কয়েকটি পয়েন্ট থাকলেও ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের কোনো উল্লেখ নেই। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে বিচ্যুত করা হয়েছে। দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য ল (এটি সংবিধান ও আইনের ওপর একটি প্রতারণা)।’
শিক্ষাক্ষেত্রে ‘৩৩-এ পাস’ তত্ত্বের অবতারণা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশ শাসকেরা এ দেশের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে ব্রিটিশদের অর্ধেক বিবেচনা করে পাসের নম্বর ৩৩ নির্ধারণ করেছিল। লিফলেটটি পড়ে মনে হয়েছে, উনারা আমাদের এখনও সেই আমলের মতো অর্ধশিক্ষিত ভাবছেন কি না। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারউইশের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে তাদের আপত্তি না থাকলেও বাকি অর্ধেক প্রশ্ন নিয়ে তাদের অবস্থান মূলত ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’। তারা দেখাতে চাচ্ছে যে কিছু করতে চাচ্ছে, কিন্তু জুলাই সনদের সেই অংশটি তাদের জন্য কখনোই প্রাসঙ্গিক হবে না।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহারের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে আমি নিজে সাক্ষী, মা-বোনদের কাছে ভোট পেতে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতে শোনা গেছে। যদি এটি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে তাদের ধন্যবাদ। তাহলে জাতির কাছে স্বীকার করতে হবে যে তারা বেহেশতের টিকিটের ধারক নন।’
দেশবার্তা/একে