দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশুকে ইতিমধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে দেশে হামের টিকার কোনো ঘাটতি বা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা নেই।
রোববার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মৃত্যুর হারও কমতির দিকে। তবে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে।
তিনি আরও যোগ করেন, টিকাদান অভিযান এখনও চলছে। আশা করছি আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে আমরা শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজকেও হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে ২৪৪ জনের মৃত্যু হলো।
ডিসিদের দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা, শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পানে উদ্বুদ্ধ করা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কাউন্সিলিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জলাতঙ্ক ও সাপে কাটার ভ্যাকসিনের যেন কোনো ঘাটতি না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব ক্লিনিক নিয়ম না মেনে বা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওষুধের দোকানে ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না, তাও তদারকি করতে বলা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে