ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  বুধবার | ৬ মে ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১৯:৩৬
চলমান বার্তা:
চাপে চ্যাপ্টা মানুষ, এপ্রিলেও বাড়ল মূল্যস্ফীতি
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১৭:৫৬  (ভিজিটর : )

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপের কারণে চলতি বছরের এপ্রিলে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে, যা মার্চ মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। যদিও গত বছরের একই মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, তবে মাসভিত্তিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির এই চাপ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এর সরাসরি প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যার ধাক্কা লেগেছে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে। মূলত এলপি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে আগুন লেগেছে।

বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এপ্রিলে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির পাশাপাশি ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার তদারকির অভাবও এই দাম বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গেছে খাদ্যবহির্ভূত খাতে। এপ্রিলে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। জ্বালানি, গ্যাস ও পরিবহন খাতের মূল্যবৃদ্ধি জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয়কে এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির ফল, যাকে বলা হয় ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’। মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই উল্লম্ফন সাধারণ নাগরিকের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে কার্যকর মনিটরিং জোরদার করা না গেলে নিকট ভবিষ্যতে এই চাপ কমানো কঠিন হবে। বিশেষ করে জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা সামলাতে বিকল্প নীতি গ্রহণ এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

দেশবার্তা/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
‘গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক’
‘গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষক’
মমতা আমলে নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের অফিসে আসায় নিষেধাজ্ঞা
মমতা আমলে নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের অফিসে আসায় নিষেধাজ্ঞা
এপ্রিলে সড়ক-নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু
এপ্রিলে সড়ক-নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg