দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান যশোর ইন্সটিটিউটের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এদিন প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
পদাধিকারবলে সভাপতি ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভার শুরুতেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নবনির্বাচিত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসাইন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাসসহ প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সদস্যরা।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্যানেলের নেতা এজেডএম সালেক স্বপনকে সর্বসম্মতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর সভায় আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।
২০২৬-২০২৯ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি হলো- সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান (পদাধিকারবলে)। সহ-সভাপতি কাসেদুজ্জামান সেলিম, সানোয়ার আলম খান দুলু ও ড. শাহানাজ পারভীন। সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক স্বপন। সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু ও সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন। পাবলিক লাইব্রেরি সম্পাদক প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী। ক্রীড়া সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাবু। নাট্য সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাবু। টাউন ক্লাব সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদত আলী। শিশু চিত্তবিনোদন (সিআরসি) সম্পাদক এমরান সাদিক।
কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন- রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল, জিল্লুর রহমান মানিক, নাসির উদ্দীন মিঠু, শাহনেওয়াজ আনোয়ার, আনিসুজ্জামান পিন্টু, এস এম মুস্তাফিজুর রহমান কবির, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, হাচিনুর রহমান ও হাবিবুর রহমান রুবেল।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভায় প্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শতবর্ষী পাবলিক লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ক্যাটালগ চালু, দুর্লভ বই সংরক্ষণ এবং পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া টাউন হল মাঠ, টেনিস কোর্ট ও শিশু পার্কের সংস্কার, নিয়মিত নাট্য উৎসব, সংগীত সন্ধ্যা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “যশোর ইন্সটিটিউট শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। নতুন কমিটি ঐতিহ্যকে ধারণ করে সময়োপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করবে— এটাই প্রত্যাশা। প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক স্বপন বলেন, “সদস্যরা যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, তার প্রতিদান দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রথম কাজ হবে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত বার্ষিক ক্যালেন্ডার তৈরি করা। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে নতুন ইভেন্ট চালু করা হবে। লাইব্রেরিকে পূর্ণাঙ্গ ই-লাইব্রেরিতে রূপান্তর, শিশুদের জন্য বিজ্ঞান ও সৃজনশীল কর্মশালা এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন আমাদের অগ্রাধিকার।”
সভায় সাধারণ সদস্যরা নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানান এবং প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর ইন্সটিটিউট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীনতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। কালের পরিক্রমায় এটি যশোরের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া অঙ্গনের বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন কমিটির হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ