যশোরের অভয়নগর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক আনিসুর রহমান ওরফে বড় আনিস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার বন্দরনগরী নওয়াপাড়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই নওয়াপাড়া রাজঘাট এলাকায় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও বাঁশ ফেলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, এসএসি-এইচএসি পরীক্ষার্থী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য সীমিত আকারে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নওয়াপাড়ার বেঙ্গল গেট সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন। “খুনিদের গ্রেপ্তার করো, বিচার করো” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের কারণে নওয়াপাড়া বন্দর সংলগ্ন সড়ক, বাজার ও অফিস-আদালতের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।
হরতাল ও অবরোধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নওয়াপাড়া নদীবন্দরে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ নদীবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের মালামাল লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকা পড়েছে বন্দরের গেটে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে প্রতিদিন কোটি টাকার ক্ষতি হবে। বিশেষ করে সিমেন্ট, সার, চাল ও ভোগ্যপণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের নেতারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর ও মহাসড়ক অচল করে দেওয়া হবে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নওয়াপাড়া থানা, অভয়নগর থানা ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাবের একটি টিমও টহল দিচ্ছে। অভয়নগর থানার ওসি জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুতই অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয়রা জানান, বড় আনিস নওয়াপাড়ার পরিচিত মুখ ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও তার অবদান ছিল। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিনিধি/আরএইচ