প্রিয় দলের শিরোপা উদযাপন স্বচক্ষে দেখতে হাজারো দর্শক আজ (শুক্রবার) ভিড় করেছিলেন কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের সেই কাঙ্ক্ষিত আনন্দের জন্য যে গোলের প্রয়োজন, সেই ‘সোনার হরিণের’ দেখা পাচ্ছিলেন না দরিয়েলতন-ফাহিমরা। সময় যত গড়াচ্ছিল, ম্যাচটি যেন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তে এসে ঠিকই মরণ কামড় দিল বসুন্ধরা কিংস। মাঠের নাটকীয়তায় আবাহনী লিমিটেডকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ষষ্ঠবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা নিজেদের করে নিল কিংসরা।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার মাত্র ১৫ মিনিট আগে পেনাল্টি পেয়ে যায় বসুন্ধরা। ডি-বক্সের ভেতর আবাহনীর দুজন ডিফেন্ডার ফাহিমকে ফাউল করে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সফল স্পটকিক থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি দরিয়েলতন। তাঁর ডান পায়ের নিখুঁত শটটি আবাহনীর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জাল স্পর্শ করতেই পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গ্যালারি আর মাঠের খেলোয়াড়দের মুখে তখন হাসির পাশাপাশি স্বস্তির ছোঁয়া।
সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে উল্লাস দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন সোহেল রানা। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে এক বুলেটগতির শটে আবাহনীর জাল কাঁপান তিনি। এই গোলের পর বসুন্ধরার শিরোপা পুনরুদ্ধার এক রকম নিশ্চিতই হয়ে যায়। বাকি ছিল কেবল রেফারির শেষ বাঁশির আনুষ্ঠানিকতা। রেফারি খেলা শেষের সংকেত দিতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বসুন্ধরা শিবির।
সর্বশেষ মৌসুমের আগে টানা পাঁচবার লিগ জেতা বসুন্ধরার ১৭ ম্যাচে এখন পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৩৮। বিপরীতে সমান ১৭ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ লড়াইয়ে আছে আবাহনী ও ফর্টিস এফসি।
অবশ্য চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হওয়ার আগে, দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল আবাহনী। ৮৫ মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্যবধান কমানোর চমৎকার প্রয়াস চালান এমেকা ওগবুগ। প্রায় মাঝমাঠ থেকে শরীরের চমৎকার মোচড়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর ডান পায়ের শটটি অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় আবাহনীকে।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আরও একটি সুযোগ এসেছিল আকাশী-নীল শিবিরের সামনে। তবে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে সুলেমান দিয়াবাতে ঠিকঠাক সতীর্থকে পাস দিতে না পারায় গোলবঞ্চিত হয় আবাহনী। তাঁর আলতো টোকার বলটি সহজেই লুফে নেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক শ্রাবণ।
এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারলে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই ট্রফি জয়ের উদযাপনে মাতেন বসুন্ধরার খেলোয়াড়রা। প্রিয় দলের এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হতে গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসেন হাজারো কিংস সমর্থক।
দেশবার্তা/একে