২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল দরজায় কড়া নাড়ছে। নতুন আসরের উন্মাদনার আগে ফিরে দেখা হচ্ছে ফুটবলের সোনালী ইতিহাস। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ২২টি আসরে মোট ৮০টি দেশ অংশ নিলেও সাফল্যের হিসেবে সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে ফুটবলের দেশ ব্রাজিল।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার জয়-পরাজয় ও পয়েন্টের গাণিতিক হিসেবে বিশ্বকাপের অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে সেলেসাওরা। এই ঐতিহাসিক তালিকায় আর্জেন্টিনার অবস্থান তিনে, আর চারবার শিরোপা জেতা ইতালিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চার নম্বর অবস্থানে।
বিশ্বকাপের এই চিরস্থায়ী র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে একটি অভিন্ন পয়েন্ট পদ্ধতির ভিত্তিতে। প্রতিটি জয়ের জন্য ৩ পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য ১ পয়েন্ট হিসেবে গণনা করে প্রাপ্ত মোট পয়েন্টকে প্রথম মানদণ্ড ধরা হয়েছে। পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধান এবং এরপর মোট গোল দেওয়ার সংখ্যাকে টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
শীর্ষে অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল
বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি আসরেই খেলেছে ব্রাজিল। টানা ২৩তম বারের মতো আগামী বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলটি ১১৪ ম্যাচে সংগ্রহ করেছে ২৪৭ পয়েন্ট। যার মধ্যে রয়েছে ৭৬টি জয়, ১৯টি ড্র ও ১৯টি হার। পুরো ইতিহাস জুড়ে ২৩৭টি গোল করার বিপরীতে ব্রাজিলের গোল ব্যবধান প্লাস ১২৯। ১৯৫৮ সালে প্রথম শিরোপার স্বাদ পাওয়া ব্রাজিল পরবর্তীতে ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পাঁচবার ট্রফি জেতার অনন্য রেকর্ড গড়েছে। ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি এখনো তাদের দখলে।
দ্বিতীয় স্থানে জার্মানির দাপট
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হিসেবে পরিচিত জার্মানি এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানি মিলিয়ে ২০টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১১২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২২৫ পয়েন্ট। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে শিরোপা জিতেছে। এর বাইরেও তারা মোট আটবার ফাইনাল খেলেছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যে কোনো দলের চেয়ে বেশি।
আর্জেন্টিনার অবস্থান তিনে
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই ঐতিহাসিক তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ‘আলবিসেলেস্তেরা’ এ পর্যন্ত ১৮টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৮৮ ম্যাচে ১৫৮ পয়েন্ট অর্জন করেছে। তাদের ঝুলিতে রয়েছে ৪৭টি জয়, ১৭টি ড্র এবং ২৪টি হার। গোল করার দিক থেকে আর্জেন্টিনা করেছে ১৫২টি এবং তাদের গোল ব্যবধান প্লাস ৫১। ১৯৩০ সালের প্রথম আসরে অংশ নিলেও মাঝপথে কয়েকটি আসরে তারা খেলেনি। তবে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে শিরোপা জিতে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
পয়েন্টে পিছিয়ে চারে ইতালি
আর্জেন্টিনার চেয়ে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি বেশি থাকলেও অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে নেমে গেছে ইতালি। ৮৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৫৬ পয়েন্ট, যা আর্জেন্টিনার চেয়ে ২ পয়েন্ট কম। মূলত টানা তিনটি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা এবং জয়-পরাজয়ের সমীকরণ ইতালিকে পিছিয়ে দিয়েছে। আজ্জুরিরা ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে মোট চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
পাঁচ নম্বরে ফ্রান্স
তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ৭৩ ম্যাচে ৩৯টি জয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৩১ পয়েন্ট। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম শিরোপা জেতার পর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার ট্রফি ঘরে তোলে ফরাসিরা। এ ছাড়া ২০০৬ এবং ২০২২ আসরে ফাইনালে পৌঁছেও তাদের রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপে এই পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর বা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। তবে দীর্ঘস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ব্রাজিল যে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ের এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।