ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের পর এখন তোলপাড় চলছে নেট দুনিয়ায়। এবার সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও। ভারতের ওই অভিনব আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় পাকিস্তানেও ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নাম জুড়ে দিয়ে একে একে তিনটি দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
পাকিস্তানে গড়ে ওঠা এই নতুন দলগুলো হলো- ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’, ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ এবং ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে একটি ব্যঙ্গ হিসেবে শুরু হওয়া এই ভাইরাল তেলাপোকা আন্দোলনটি সীমান্ত পেরিয়ে এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে দলগুলোর নামে খোলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোর ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
অনলাইনে আত্মপ্রকাশ করা এই দলগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’। নিজেদের ইনস্টাগ্রাম পেজের বায়োতে (পরিচিতি) তারা খোলাখুলিভাবে ভারতীয় আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করে লিখেছে, ‘হ্যাঁ, নকল করেছি; কিন্তু তাতে কী আসে যায়? মূলমন্ত্র তো একই।’ গত শুক্রবার নাগাদ এই অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
আরেকটি দল ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ তাদের পরিচিতিতে লিখেছে, ‘তরুণদের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা পরিচালিত দল, আর এটি পাকিস্তানের জন্য।’ একই ধরনের অন্য একটি অ্যাকাউন্টের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ‘যাদের সিস্টেম তেলাপোকা মনে করেছিল, আমরা সেই সাধারণ জনসাধারণেরই কণ্ঠস্বর।’
এই পেজগুলোর লোগো ভারতের মূল সংগঠনের লোগোর সঙ্গে হুবহু মিল থাকলেও তারা সচেতনভাবেই পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার সঙ্গে মিল রেখে সবুজ-সাদা রঙ বেছে নিয়েছে। ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ও বিকল্প শক্তি হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে তারা।
যেভাবে শুরু এই ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন
সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানির সময় দেশটির প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা ও পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে অভিজিৎ দীপকে নামের ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক দল গঠন করেন, যা দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দলটির অ্যাকাউন্টে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। এই অনুসারীর সংখ্যা ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের চেয়েও বেশি।
ভার্চুয়াল জগতে এই ‘তেলাপোকা পার্টি’র এমন অভাবনীয় জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে সবার নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও এ নিয়ে দফায় দফায় প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের তরুণ সমাজও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে অনলাইনের এই নতুন ট্রেন্ড লুফে নিয়েছে।
দেশবার্তা/একে