যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রাসায়নিক ট্যাংকে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি অ্যারোস্পেস প্লাস্টিক কারখানার স্টোরেজ ট্যাংক ছিদ্র হয়ে প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ জানায়, অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ শহরে অবস্থিত ‘জিকেএন অ্যারোস্পেস’ নামের একটি কারখানায় একটি স্টোরেজ ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে বাতাসে বিষাক্ত বাষ্প ছাড়তে শুরু করে। বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি করা ওই কারখানাটির ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকটিতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার গ্যালন ‘মিথাইল মেথাক্রিলেট’ নামক বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে।
যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কা
অরেঞ্জ কাউন্টি দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রেগ কোভে শুক্রবার (২২ মে) জানান, ছিদ্র হওয়ার কারণে যেকোনো সময় ট্যাংকটি ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রাসায়নিক পদার্থ মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা এটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
তিনি বলেন, এই ট্যাংকটি একসময় ফেটে যাবেই, তবে ঠিক কখন ফাটবে তা আমরা জানি না। এটি কীভাবে ঠেকানো যাবে, তা বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তবে একই দিন পরবর্তী এক আপডেটে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ ট্যাংকের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা সমস্যা সমাধানের জন্য কিছুটা বাড়তি সময় দিচ্ছে।
রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে গার্ডেন গ্রোভের বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সারা রাত ধরে ছিদ্র বন্ধের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর অরেঞ্জ কাউন্টি শহরের আরও পাঁচটি এলাকা- সাইপ্রেস, স্ট্যান্টন, অ্যানাহেইম, বুয়েনা পার্ক এবং ওয়েস্টমিনস্টারের বাসিন্দাদেরও দ্রুত সরে যাওয়ার আদেশ জারি করা হয়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ডিজনিল্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থান
যে কারখানাটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিখ্যাত বিনোদন কেন্দ্র ডিজনিল্যান্ডের দুটি থিম পার্ক থেকে দেড় কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। তবে ডিজনিল্যান্ড এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা এখনও জারি করা হয়নি।
আকস্মিক এই উচ্ছেদ আদেশে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্যানি ফাম নামের এক বাসিন্দা জানান, আগের রাতে রেস্তোরাঁয় দেরি পর্যন্ত কাজ করায় এই খবর তিনি জানতেন না। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে রুমমেটের ডাকে ঘুম ভাঙলে তিনি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু মানিব্যাগ আর পাসপোর্ট নিয়ে ঘর ছাড়েন। আপাতত পাশের শহরের এক বন্ধুর রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেওয়া এই যুবক দুশ্চিন্তায় আছেন যে, আগামী কয়েকদিন হয়তো এক কাপড়েই কাটাতে হবে তাঁকে।
স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজিনা চিনসিও-কোয়ং জানান, এই রাসায়নিক পদার্থটি গরম হলে যে বাষ্প নির্গত হয়, তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি মানবদেহে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও চুলকানি, বমি বমি ভাব এবং তীব্র মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রেগ কোভে জানান, কর্মীরা প্রথমে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের মধ্যে একটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও শুক্রবার সকালে দেখা যায় অন্য ট্যাংকটির অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেছে। রাসায়নিক পদার্থ যাতে নর্দমা হয়ে কাছাকাছি কোনো খাল বা সমুদ্রের পানিতে মিশতে না পারে, সেজন্য বালির থলে দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে জিকেএন অ্যারোস্পেসের একজন মুখপাত্র ইমেইলে জানিয়েছেন, একটি বিশেষজ্ঞ হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল (বিপজ্জনক পদার্থ বিষয়ক) দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। এই মুহূর্তে কোনো আহতের খবর নেই এবং কর্মী ও আশেপাশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
দেশবার্তা/একে