রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৭)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাশিয়া থেকে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর স্বজনদের জানিয়েছেন বলে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির নিশ্চিত করেছেন। ওই একই বিস্ফোরণে আরও দুই বাংলাদেশি নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত অপর দুজন হলেন- মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ জানান, বর্তমানে রাশিয়ার একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মৃদুল নামের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল দাবি করেন, ‘আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভালো চাকরির কথা বলে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠায়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাঁদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ওই এজেন্সিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের বাবা রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং মা জাকিয়া বেগম পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। করোনাকালের সংকটে পরিবারটি ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। এসএসসি পাস করার পর জাহাঙ্গীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেন। পরে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে আবার গ্রামে ফিরে যান। অবশেষে চার মাস আগে সংসারের ভাগ্য ফেরাতে শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সহায়তায় ভালো চাকরির আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বলেন, সে যে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমরা পরে জানতে পারি। আমি তাকে বলেছিলাম যেভাবেই হোক দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু সে আর ফিরতে পারল না। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।
আড়াই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাশুকা হোসাইন আক্ষেপ করে বলেন, ভালো চাকরি করে সংসারের ভাগ্য ফেরাতে রাশিয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাকে যুদ্ধে পাঠানো হলো। এ যুদ্ধে শুধু সে না, আমরাও যেন শেষ হয়ে গেলাম।
ছেলের অকাল মৃত্যুর সংবাদে মা জাকিয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল কবির বলেন, অফিসিয়ালি কোনো তথ্য না পেলেও পরিবারের কাছ থেকে আমরা মৃত্যুর খবরটি জেনেছি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নামের আরেক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন।
দেশবার্তা/একে