যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এখন মাত্র ২১ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও দাবি তাঁর।
আজ শনিবার (৬ জুন) জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন অবকাঠামো ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং সেগুলোর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। একইভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য অংশ অকার্যকর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত সম্পর্কে নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে, তবে শতাংশের হিসাবে এখন তা প্রায় ২১ বা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি অনেক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম—তার তুলনায় কিছুই না।”
সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর ইরানের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলে দাবি তাঁর।
এদিকে শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলমান থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর মতে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে পারছে না, যার ফলে আলোচনায় অগ্রগতি কিছুটা ধীর হচ্ছে। তারা মূলত ‘অহংকার’ ধরে রেখেছে।
তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের দেওয়া এক পৃথক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে’ এবং চলতি সপ্তাহান্তেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রয়োজনে ইরানের ওপর আবারও সামরিক অভিযান চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “খুব সহজ” উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান চান।
দেশবার্তা/একে