ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭ এর বার্ষিক সম্মেলন আজ শুরু হবে। সদস্য দেশগুলোর নেতারা তিন দিনের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সবার আগে ফ্রান্সে গিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করা শীর্ষক একটি কর্ম-নৈশভোজের মাধ্যমে জি–৭ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
এবারের জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো, বৈশ্বিক উত্তেজনা কমাতে অভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এ সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে নতুন সমঝোতা গড়ে তোলা এবং জি–৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা।
এছাড়া সম্মেলনে আলোচ্যসূচির অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, চীনের কথিত অন্যায্য প্রতিযোগিতা, অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত ও প্রভাবশালী উত্থান।
জি-৭ হলো বিশ্বের সাতটি প্রধান শিল্পোন্নত গণতান্ত্রিক দেশের একটি অনানুষ্ঠানিক জোট। বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই সংগঠনটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত জোটটি শুরুতে জি-৬ নামে গঠিত হলেও পরে ১৯৭৬ সালে কানাডা যোগ দিলে এটি জি–৭ এ পরিণত হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে রাশিয়া যোগ দিলে নাম হয় জি-৮। কিন্তু ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করলে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয় এবং ফের জি-৭ নামে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
জি–৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো- ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইতালি ও কানাডা। এই সাত দেশের বাইরেও বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে- ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। তারা জি–৭ বৈঠকে অংশ নেন যদিও ইইউ আনুষ্ঠানিক সদস্য নয়।
দেশবার্তা/একে