খুলনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার ব্যবহারের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, অভিযানের নামে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বড় ধরনের অনিয়মকারীরা শাস্তির আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বরং অর্থের বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব অভিযোগ উঠেছে বিক্রয় বিতরন বিভাগ-২ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুখ মামুন এর বিরুদ্ধে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উৎকোচ এর বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ১১ এপ্রিল (শনিবার) খুলনা সিটি করপোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে ৪ টি অবৈধ মিটার জব্দ করা হয়। উক্ত মিটারে মোট ১৪ লক্ষ টাকার বিল বকেয়া পরিলক্ষিত হলেও পরে গ্রাহকদের সঙ্গে দেনদরবার করে মোটা টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেন উক্ত এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। তিনি বিদ্যুৎ এবং তেল সেক্টরকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।
একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এ সকল অবৈধ সংযোগ অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষভাবেই হয়ে আসছে। সাধারণ জনগণের দাবি, একটি মিটারে ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার বিল বকেয়া কিভাবে থাকতে পারে। এখানে কর্মকর্তাদের জোগসাযোশ ছাড়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎখাতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে তা শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই নয়, বরং সামগ্রিক জ্বালানি খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যেখানে সংবেদনশীল, সেখানে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বিক্রয় বিতরন বিভাগ-২ দৌলতপুর এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোমিনুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এবং অফিসে যেতে বলেন।
পরে খুলনা সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আরিফুর রহমান বলেন, যদি কোন মিটার সংযোগসহ আটক করা হয় বা জব্দ করা হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে মিটারে রিডিং অনুযায়ী যে বিল আসবে তার তিন গুণ জরিমানা দিতে হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে বোর্ড মিটিংএর মাধ্যমে বিলের কিছু অংশ মাণবিক দিক বিবেচনা করে সেক্রিফাইস করা হয়ে থাকে" তবে সেটা অতি সামান্য।
সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
প্রতিনিধি/আরএইচ