দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর থেকে মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রলের অপেক্ষায় ছিলেন ফুলবাড়ী সদরের ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) তেল আসার খবর পেয়ে তিনি ভোরেই স্টেশনে যান। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রল নিতে সক্ষম হন তিনি।
পল্লী চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকীর মতোই তেল নিতে আসা কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন যানবাহন চালকদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বলেন, “ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া যাবে—এমন খবর পেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে ভোরে এসে লাইনে দাঁড়াই। আমার আগেই শতাধিক মোটরসাইকেল ছিল। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর যে তেল পেয়েছি, তা যাতায়াতেই শেষ হয়ে যাবে।”
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পলিশিবনগর থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, “রোববার রাতে জানতে পারি সোমবার সকালে তেল দেওয়া হবে। তাই সকাল ৭টায় এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি রোদে দাঁড়িয়ে আছি। কখন তেল পাব, তাও নিশ্চিত নই।”
এদিকে পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের এনজিওকর্মী রাকিব হাসান জনি বলেন, “কখন তেল পাব, তা জানি না। এমনও হয়েছে সামনে গিয়ে বলা হয়েছে তেল শেষ। চাকরির কাজে প্রতিদিনই দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, তেলের অভাবে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”
মধ্যপাড়া থেকে আসা ভাড়ায়চালিত প্রাইভেট কারচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “তেলের অভাবে গাড়ি বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। যাত্রী পরিবহন করা যাচ্ছে না। নিয়মিত তেল না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।”
গোপালপুর এলাকার কৃষক ডুবারু রায় জানান, ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে সামান্য তেল পেয়েছি, তা দিয়ে কী হবে বুঝতে পারছি না—সেচ দেব নাকি জমি চাষ করব।”
ফুলবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. লিটন সরকার বলেন, “রোববার ফিলিং স্টেশনের জন্য পেট্রল আড়াই হাজার লিটার এবং ডিজেল সাড়ে চার হাজার লিটার বরাদ্দ পাওয়া যায়। বরাদ্দ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হয়েছে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ