ই-পেপার |  ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ 
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793693_Self-1.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793710_Self-2.jpg

সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৪২
চলমান বার্তা:
জয়পুরহাটে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:২৮  (ভিজিটর : )

কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনায় জয়পুরহাটে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কম সময়ে ফলন, তুলনামূলক কম রোগবালাই এবং বাজারে চাহিদা থাকায় এ ফসলকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তারা। তবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক কৃষক। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, তারা নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় প্রায় ৮ হাজার পোলট্রি খামার থাকায় ভুট্টার চাহিদা রয়েছে বেশ। পাশাপাশি মাছের খাদ্য ও বেকারি শিল্পেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেতেই গাছে গাছে হলুদ ভুট্টা দানা ধরেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে ভুট্টা সংগ্রহ। কৃষকদের হিসাবে, প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ফলন মিলছে ৩৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি মণ প্রায় ১ হাজার টাকায় বিক্রি সম্ভব, সে হিসেবে বিঘাপ্রতি ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।

তবে কিছু এলাকায় পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে ভুট্টার মোচার আগায় পোকা ধরায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সদরের পালিগ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুট্টা অনেক লাভজনক ফসল। কিন্তু আমার জমিতে মোচার আগায় পোকা ধরেছে। কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাচ্ছি না।

একই গ্রামের সোহাগ হোসেন বলেন, দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা করেছি। এখন পোকা লাগায় চিন্তায় আছি। কখন কী ওষুধ দিতে হবে—এই পরামর্শটা পেলে ভালো হতো।

শুক্তাহার গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, সাধারণত বিঘাপ্রতি ৪০ মণের মতো ফলন হয়। এবারও ভালো ফলনের আশা আছে। কিন্তু রোগবালাই হলে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছি। কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে উপকার হতো।

পাইকরতলী গ্রামের জহুরুল ইসলাম জানান, ভুট্টা বিক্রির ক্ষেত্রে স্থায়ী বাজার না থাকায় তারা প্রায়ই ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। সরকার যদি স্থায়ী হাট বা বাজারের ব্যবস্থা করত, তাহলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হতেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ৪০ মণের বেশি ফলনের আশা করা যাচ্ছে। আমরা নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।

ভুট্টার চাহিদা ও লাভজনকতা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এ জেলায় এ ফসলের আবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিনিধি/একে
মতামত লিখুন:
আরও পড়ুন 
নির্বাচিত সংবাদ
হরমুজকে প্রাধান্য দিয়ে তিন ধাপের সংলাপ চায় ইরান
হরমুজকে প্রাধান্য দিয়ে তিন ধাপের সংলাপ চায় ইরান
দেশে ডিজেলের মজুত কত, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
দেশে ডিজেলের মজুত কত, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
ভুটানে সীমান্তবর্তী এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
ভুটানে সীমান্তবর্তী এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ঘিরে সাজ সাজ রব
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং ঘিরে সাজ সাজ রব
স্বত্ব © ২০২৫ দেশ বার্তা | সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793725_Self-3.jpg
https://thedailydeshbarta.com/ad/1756793740_Self-4.jpg