যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বাদ আসর স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন।
এর আগে শনিবার সকালে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়। তাঁরা শেষবারের মতো বৃষ্টিকে দেখতে ভিড় করেন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সব সময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটিকে এভাবে হারাতে হবে, তা কখনো ভাবিনি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা জহির উদ্দিন আকন। তিনি বলেন, ‘যেখানে আনন্দের সঙ্গে মেয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল, সেখানে সে লাশ হয়ে ফিরল। এই শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বৃষ্টি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় পরিবারের পাশে আছি।’
জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। একই সময়ে নিখোঁজ হন তাঁর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনও। পরে ২৪ এপ্রিল হিলসবোর কাউন্টি শেরিফ অফিস জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ৩০ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসআইএস