‘হাওর বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও হাওর অঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে সিলেটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার একটি মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওর এলাকার কৃষকেরা মূলত একটি মাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফসলহানি হলে তাঁদের আয়ের আর কোনো পথ থাকে না। সরকার ওএমএস-এর মাধ্যমে যে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে তা ইতিবাচক। তবে আগামী ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত এই সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবছর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা শেষ পর্যন্ত কৃষকের উপকারে আসছে না। ২০০৪, ২০১১, ২০১৭ ও ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, বাঁধ উপচে বা ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এর মূল কারণ হিসেবে বক্তারা নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করেন। উজানের ঢল ও কচুরিপানা পচে নদীতে পলি জমে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। তাই নদী খনন কর্মসূচি দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান।
সুনামগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মনসুর আহমদ লস্কর ও সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হাজী মো. আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত বিশ্বাস, রুহুল ইসলাম মিঠু, ইউসুফ সেলু, সাব্বির আহমদ ও আব্দুল ওয়াদুদসহ মানবাধিকার কর্মীরা।
বক্তারা আগামী মৌসুমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব সরঞ্জাম বিনামূল্যে প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশবার্তা/একে