মধুমাস শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি। অথচ এর আগেই মাগুরার হাট-বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে অপরিপক্ব লিচু। আকারে ছোট ও স্বাদে টক এসব লিচু কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি।
মাগুরার পুরাতন বাজার, নতুন বাজার, জামরুলতলা, ঢাকা রোড, ভায়না মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে এবং শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে এসব অপরিপক্ব লিচু বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, মূলত বৃষ্টির আশঙ্কায় বাগানমালিকেরা আগাম জাতের এসব লিচু বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই বেশি লাভের আশায় তাঁরা এগুলো আগেভাগেই বাজারে নিয়ে এসেছেন।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, সন্তানদের বায়না মেটাতে লিচু কিনতে এলেও তাঁরা হতাশ হচ্ছেন। কারণ, এসব লিচু এখনো মিষ্টি হয়নি এবং স্বাদে বেশ টক। তারপরও মৌসুমি ফল হিসেবে অনেকেই তা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সচেতন মহলের মতে, জ্যৈষ্ঠ মাস আসার আগেই অপরিপক্ব ফল বাজারজাত করা মোটেও ঠিক নয়।
বাগানমালিকদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়েই তাঁরা দ্রুত ফল পাড়ছেন।
সদর উপজেলার বাগানমালিক আকামত বলেন, ‘সব লিচু একসঙ্গে পাকে না। তার ওপর বাদুড় ও পাখির আক্রমণ থেকে লিচু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন গাছে জাল ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার ঝড়-বৃষ্টি হলে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেই ভয়েই আংশিক লিচু বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।’
ওয়াসিকুর রহমান নামের আরেক মালিক জানান, তাঁর বাগানের কিছু গাছের ডাল লিচুর ভারে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় তিনি অপরিপক্ব ফলই বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, বাজারে বর্তমানে যেসব লিচু পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো এখনো পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী হয়নি। ভালো লিচু বাজারে আসতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় বাগান থেকে কাঁচা লিচু সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিপক্ব ও রাসায়নিক মেশানো লিচু খেলে বদহজমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে। কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারি ও জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/একে